ওপেক প্লাস অক্টোবরেও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তবে বিশ্ববাজারে চাহিদা কিছুটা মন্থর হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোর তুলনায় উত্তোলন ধীরগতিতে বাড়ানো হতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওপেক প্লাস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশগুলোর সংগঠন ওপেক প্লাস। সংগঠনটি গত এপ্রিল থেকে দৈনিক প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়িয়েছে। এটি বৈশ্বিক চাহিদার ২ দশমিক ৪ শতাংশের সমান।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উত্তোলন বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের মুখে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর চেষ্টা চলছে। তবে এসব বৃদ্ধিও দামে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ওপেক-বহির্ভূত দেশগুলোয় উত্তোলন বাড়ানোর কারণে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি এখনো ৬৬ ডলারের কাছাকাছি।
ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো বিশ্বের প্রায় অর্ধেক জ্বালানি তেল সরবরাহ করে। সংস্থাটি বর্তমানে দুই স্তরের উত্তোলন হ্রাস কার্যকর রেখেছে। এর মধ্যে একটি দৈনিক সাড়ে ১৬ লাখ ব্যারেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত। বর্তমানে এটি আট সদস্যদেশ মেনে চলছে। আরেকটি দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্ত, যা ওপেক প্লাসভুক্ত সব সদস্যদেশের জন্য ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সূত্রের দেয়া তথ্যানুযায়ী, অক্টোবর থেকে প্রথম স্তরের উত্তোলন হ্রাস ধাপে ধাপে তুলে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে অন্তত দৈনিক ১ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বৃদ্ধির বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে সদস্যদেশগুলো। অন্য এক সূত্র জানায়, বৃদ্ধির পরিমাণ দুই লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ ব্যারেল পর্যন্ত হতে পারে।
গত আগস্টের বৈঠকে ওপেক প্লাস সেপ্টেম্বরের জন্য দৈনিক ৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তবে ওপেক প্লাসের ঘোষিত বাড়তি উত্তোলন প্রকৃতপক্ষে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। কারণ বেশির ভাগ সদস্যদেশই প্রায় পূর্ণ সক্ষমতায় উত্তোলন করছে। ফলে কার্যত শুধু সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতই বাজারে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে।